1. admin@sotteronusandhan24.com : admin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কোম্পানীগঞ্জে ৩৬৭ বোতল মদ সহ একজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফেনী তাঁতীদল নেতা জামাল উদ্দিন জিয়া বহিষ্কার জাতীয়তাবাদী সাইবার ইউজার দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল ফেনী পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা খুরশিদ দিন-দুপুরে মধুয়াই খাল দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম নিলেন মিতা, ফেনী-৩ এ বইছে সমর্থনের জোয়ার কোম্পানীগঞ্জের দুর্ধর্ষ ডাকাত “মাইস্যা” গ্রেফতার পরশুরামে ২৪ শে বন্যা মেরামত হয়নি বেড়িবাঁধ, বৃষ্টি হলেই বন্যার আশংকা ফরম তুলতেই আলোচনার কেন্দ্র রানু, ফেনীতে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় পরশুরামে ইটভাটা মালিকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পরই ফেনীতে ‘হাইভোল্টেজ’ আলোচনা অগ্নকণ্যা রানুকে ঘিরে

পরশুরামে শান্তি পাড়া ও জামবিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেহাল দশা, ২৯ বছরে একবারও হয়নি সংস্কার

মহি উদ্দিন,(পরশুরাম,ফেনী)
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ১১৯ বার পড়া হয়েছে

ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় ৪ নং বক্স মাহমুদ ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গুথুমা শান্তিপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ও জামবিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসের ঘর গুলোর বেহাল দশা।বস বাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।শুরুতে ৭০ পরিবার দিয়ে শুরু হলে বর্তমান জনসংখ্যা রয়েছে ৩৮০/৪০০ জন।সবাই মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সরে জমিনে ঘুরে জানা যায় সংস্কার হয় নি ২৯ বছর। দীর্ঘদিন সংস্কার না থাকায় প্রতিটি ঘরের চালের টিন বেশির ভাগই মরিচা ধরে আছে। একদিকে মরিচা ধরা আরেক দিকে বেশির ভাগ টিন চিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি চালে পড়ার সাথে সাথে ঘরে পড়ে।

৭০ পরিবারের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ টি নলকূপ। সংস্কারের অভাবে নলকূপ গুলোর পানির দেখা মিলছে না।ব্যবহারের অনুপযোগী রয়েছে শৌচাগার গুলো।

এলাকা বাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ – ১৯৯৮ সালে ভূমিহীন, গৃহহীন এবং হতদরিদ্র মানুষের জন্য এই আশ্রয়ণ প্রকল্প স্থাপন করে তৎকালীন সরকার।

দক্ষিণ গুথুমা শান্তি পাড়া ৭ টি ব্যারাকে ৭০ টি পরিবার এবং জামবিল এলাকায় ৬ টি ব্যারেকে ৬০ পরিবার মাথাগোঁজার ঠিকানা হয়।এসব আশ্রয়ণ প্রকল্পে।

প্রতিটি ব্যারাকের জন্য পৃথকভাবে শৌচাগার ও একটি করে নলকূপ বসানো হয়েছে। কিন্তু কয়েক বছরের পর সঠিকভাবে তদারকি না থাকায় প্রতিটি ব্যারাকের টিন গুলো মরিচা ধরে যায়।টিউবওয়েল গুলো ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শৌচাগার এবং কল গুলো পরিত্যক্ত হয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সংস্কার করার জন্য দাবি জানালেও কোন প্রতিকার নেই।

আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী না থাকায় প্রতিটি পরিবার ছাড়তে পারছে না আশ্রয়ণের থাকা ঘর । টানা বৃষ্টি শুরু হলে কষ্টের শেষ নেই।

মনির আহমেদ জানান, মাঝে মাঝে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এসে আশ্বাস দিলেও উদ্বোধনের পর আর কোনো সংস্কার হয় নি। এই অবস্থা হইবো জানলে এন্ডে আঁই জীবনেও আঁচতাম না।শুরুতে সব কিছু ছিল। কিন্তু সংস্কারের অভাবে নেই টয়লেট, নেই নলকূপ, নেই একটা পুকুর। ইয়ান কোন জীবন।

রহিমা আক্তার (৫৫) জানান, থাকার সমস্যা পানির সমস্যা, টয়লেটের সমস্যা, বৃষ্টি শুরু হলে কাতা,বালুশ, জামা, কাপড় এবং ছেলে মেয়ের বই খাতা বিজে যায়।দিনে বৃষ্টি হলে কিছু রক্ষা করতে পারলে কিন্তু রাতে বৃষ্টি হলে বেশির ভাগ জিনিসপত্র বিজে যায়।

সুরমা আক্তার (৬৩) জানান, ২০০১ সালে আইলাম কিন্তু বর্তমানের কষ্টের শেষ নেই। কমি যামু, কিয়া করমু, কনমুই যাইবার সুযোগ নেই, মেরামত করার মত কোন লোক আঁয়ে না।ঝর শুরু হলে দিনে কোন রকম জিনিস রক্ষা করি।কিন্তু রাতে ঝর শুরু হলে চিন্তায় ঘুমও আঁয়ে না।হোলা – মাইয়া নিয়ে জাগন থাকতে হয়।হোলা মাইয়ার বই খাতা বিজে যায়।

বারেক মিয়া( ৬৯) বলেন, হুতলে আসমান দেঁয়া যায়।সামান্য ঝর হলে আঁর ঘরের সব বিজে যায়। সারা জীবন কষ্ট কইল লাম আন্ডা জীবন শেষ, কিয়া করমু, কয়েকজন মিলে কিস্তি নিয়ে টয়লেট দিছি এবং টিউবওয়েল বসাইছি।এগিন করি দিন গুনছি।

মরনের আগেও আঙ্গো আর শান্তি আইতোনো। তিনি আরও জানান, যে টিউবওয়েল বসাইলাম কিন্তু শীতকালে হানি উঠে না।কিন্তু অধিক খরচের কারণে চালের টিন মেরামত করা হচ্ছে না। বেশির ভাগই তেরপাল দিয়ে জীবন যাপন করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা পরশুরাম মাদ্রাসার ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস জানান দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকায় ভোট বিহীন জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কল্যাণে কোন কাজ করে নাই। কিন্তু দীর্ঘ প্রতিক্ষার বছর এবার নির্বাচিত সরকার এসেছে। আশা করছি সরকারের মনোনীত এমপি রফিকুল আলম মজনু মহোদয় আশ্রয়ণ প্রকল্প গুলো মেরামত করার জন্য দায়িত্ব নিবেন।তাদের কষ্ট দেখলে নিজের কাছেও অনেক খারাপ লাগে। আমাদের একদিন দুদিন সমস্যা হলে আমরা দিশা হারা হয়ে যা-ই। কিন্তু তারা দেড় যুগ ধরে কষ্ট করতেছে।

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল মনি জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প মেরামত বা সংস্কার করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে কোন ব্যবস্থা নেই। এটা সম্পূর্ণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইচ্ছা করলে মেরামত করার জন্য প্রকল্প হাতে নিতে পারে। আমি এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা কে জানানো হয়েছে।আশা মেডাম বর্ষার আগে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা জানান, এবিষয়ে আমার নজরে আছে। আমি ডিসি স্যারের সাথে এবিষয়ে কথা বলব।যথ দ্রুত সম্ভব নতুন বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার করার চেষ্টা করব।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD