
পরশুরামে মারকাজুল উলুম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার উপদেষ্টা মাওলানা নুর বখশের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ,জায়গা বিক্রি এবং নিজ নামে রেজিস্ট্রিসহ নানা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাদ্রাসাটির মুহতামিম মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীসহ অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১ টায় পরশুরাম প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী বলেন, আল্লাহর ৯৯ নামের সাথে মিল রেখে ৯৯ জন দাতা সদস্য থেকে ৯৯ হাজার টাকা করে ৯৯ লক্ষ টাকা সংগ্রহ হলে মাদ্রাসার নামে জায়গা ক্রয় করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন মাওলানা নুর বখস। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে তিনি মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে জায়গাটি দান (কবলা) করলেও খতিয়ান নিজ নামে করে নেন।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সাইফুল্লাহ মজুমদার থেকে ৬ শতক জমি মাদ্রাসার মসজিদের নামে দানপত্র করা হয়। দুইটি দলিলে কিছু শর্ত যোগ করার কারনে আবারও সমালোচনার মুখে পড়েন মাও. নুর বখশ। ৩ শত টাকার স্ট্যাম্পে বিষয়টি ঠিক করার কথা থাকলেও তিনি তা করেননি।তাঁর এ সমস্ত বিষয়ের প্রতিবাদ করায় মাদ্রাসায় কর্মরত ৪ জন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
তিনি বলেন, রোকেয়া আক্তার,রফিকুল ইসলাম, সেলিম মজুমদারের ৫৩ শতক জায়গা মাদ্রাসার জন্য বায়না হয়েছিল। তারা স্বল্পমূল্যে জায়গাগুলো মাদ্রাসা মসজিদের জন্য ছেড়ে দেন। পরে দশ লাখ টাকা মূল্যের আরও ৪ শতক জায়গা তারা ছেড়ে দেন। যার একটি রশিদও তাদের দেয়া হয়। যেটি মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া চাঁদা আদায়ের বইয়ের ২০নং রশিদ। এছাড়া মাদ্রাসার জন্য ক্রয়কৃত জমি মাদ্রাসার নামে রেজিস্ট্রি না করে তার খালাতো ভাই বেলালের নামে পাওয়ার করে এবং তার ভাগিনাদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নুর বক্স মাওলানার গ্রামের এক প্রবীণ আলেম বলেন তার কারণে আমাদের গ্রামে অনেক অশান্তি। সে মসজিদ, মুক্তব, মাদ্রাসা এবং কবরের স্থানের নামে টাকা সংগ্রহ করে নিজে আত্মসাৎ করে। আমাদের গ্রামে ঈদগাঁ সভাপতি করলে ২০ লক্ষ টাকা ফান্ডে দিবে।কিন্তু নুর বক্স কে ঈদগাঁ সভাপতি করার পর তার খালাত ভাই তৎকালীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার তপনে সহযোগিতায় দীর্ঘ ২০০ বছরের পুরনো কবরের স্থান দখল করে ঈদগাঁ করেন।এতে গ্রামে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ সব ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে, দাতাদের দানের টাকায় ক্রয়কৃত জমি নুর বখশ তার মৃত পিতামাতার ইছালে ছাওয়াবের জন্য দান করছেন বলে দলিলে উল্লেখ করেছেন।
গত ১২ মার্চ মাদ্রাসায় তার ভাগিনা ও অনুগত শিক্ষকদের দিয়ে আমার উপর হামলা চালায়। মাদ্রাসা খোলা থাকায় অভিভাবকরা আমাকে প্রাণে রক্ষা করেন।তিনি আরো বলেন, জাল জালিয়াতি করে ২০১৭ সালের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাকে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাকাল হিসেবে দেখানো হয়েছে। তার বিভিন্ন বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসী।