
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ওলামাবাজার হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মাস্টার জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও জবর দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা এনায়েত উল্যাহ স্বপন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে মাস্টার জাহাঙ্গীরের স্ত্রী আসমা বেগম জানতে পারেন, রাতের আঁধারে আহম্মদপুর গ্রামের বাঁশতলা এলাকায় তাদের বসতভিটার ওয়াল ভেঙে স্বপন ও আরিফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী জমি ও বাড়ি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
খবর পেয়ে আসমা বেগম সোনাগাজী মডেল থানায় গিয়ে পুলিশকে অবহিত করলে দায়িত্বরত এসআই কিবরিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে ওই সময় থানায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য না থাকায় মুহুরী প্রজেক্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে আসমা বেগম তার ছেলে (ঢাকার মাইলস্টোন কলেজের ছাত্র) ও মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছালে স্বপন ও আরিফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ধাওয়া করে। প্রাণ বাঁচাতে তারা দ্রুত ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মরক্ষা করেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা দীর্ঘক্ষণ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও গালিগালাজ চালায়।
পরে এসআই কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ আসমা বেগমসহ তার পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
এদিকে আসমা বেগমকে বহনকারী একটি সিএনজি ভাঙচুর করা হয় এবং চালককে মারধর করা হয়। আহত চালক সোনাগাজী হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বর্তমানে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
উল্লেখ্য, পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন কোনো অভিযোগ না থাকলেও সম্প্রতি প্রভাব খাটিয়ে স্বপন ও আরিফের নেতৃত্বে পুনরায় বাড়িঘর দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্বপন ও আরিফ উভয়েই আহম্মদপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার ওয়াজিউল্লাহর পুত্র।
তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, মামলা নিতে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ গড়িমসি করছে।
এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।