
জিরো অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর ফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ ফেনীর আমজাদ হোসেন রিফাত।
মিশরের ঐতিহ্যবাহী Al-Azhar University-এ অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন রিফাত আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতা Zero Olympiad 2026-এর ফাইনাল রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন গৌরব অর্জন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯ হাজার ৩৩২ জন প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা ৫১ জনের একজন হিসেবে তিনি চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছেন।
ফেনী জেলার গোহাড়ুয়া গ্রামের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা আফছার উদ্দিনের ছেলে রিফাত বর্তমানে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। আয়োজকদের প্রকাশিত 'SDG Achiever Results'-এ এসডিজি-১১ (Sustainable Cities and Communities) ক্যাটাগরিতে নির্বাচিতদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিজের অনুভুতি জানাতে গিয়ে রিফাত বলেন, বিশ্বের হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর সঙ্গে তার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথম ধাপে ৯ হাজার ৩৩২ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্য থেকে ৩ হাজার ৪০৭ জন দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তী ধাপগুলোতে সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার নানা মূল্যায়ন অতিক্রম করে তিনি চূড়ান্তভাবে সেরা ৫১ জনের তালিকায় স্থান পান।
তিনি জানান, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে এসডিজি-১১ ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ভাষায়, এই সাফল্য কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং নতুন কিছু শেখা, দৃষ্টিভঙ্গির পরিধি বাড়ানো এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বিকাশের এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা।
রিফাত বলেন, প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপই ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তবে সেই চ্যালেঞ্জগুলো তাকে নতুনভাবে ভাবতে, শিখতে এবং নিজের সম্ভাবনাকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। তিনি এই অর্জনের পেছনে পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহযাত্রীদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে তিনি তার পরিবার, শিক্ষকমণ্ডলী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের দোয়া, ভালোবাসা এবং নিরন্তর উৎসাহই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জিরো অলিম্পিয়াডে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী অংশ নেন। একাধিক ধাপের কঠোর মূল্যায়ন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিতরাই ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রিফাতের এই অর্জনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এমন মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় একজন বাংলাদেশির সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তরুণদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে রিফাতের এই কৃতিত্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের জোয়ার বইছে। সহপাঠী, প্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। অনেকেই আশা প্রকাশ করেছেন, ফাইনাল রাউন্ডেও তিনি সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবেন।
উল্লেখ্য, Zero Olympiad শিশু গবেষক ও জলবায়ু অ্যাক্টিভিস্ট Faatiha Aayat কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষামূলক ও পরিবেশভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর মূল লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতিসংঘের ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG), জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক নীতি, কূটনীতি এবং সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। শিশু অধিকার, মানবাধিকার এবং জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার জন্য ফাতিহা আয়াত বিশেষভাবে পরিচিত। জিরো অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানার এবং নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়।