
২৫ মার্চ গণহত্যা-এর বিভীষিকাময় স্মৃতি আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এর অমলিন গৌরব নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ফেনীতে অনুষ্ঠিত হলো এক হৃদয়স্পর্শী আলোচনা সভা।
জেলা তথ্য অফিস ফেনীর আয়োজনে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা তুলে ধরেন ইতিহাসের নির্মমতা, সংগ্রামের গৌরব এবং বর্তমান সময়ের দায়বদ্ধতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মহাপরিচালক (গণযোগাযোগ অধিদপ্তর) মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবু তাহের এবং প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফেনী সরকারি কলেজের প্রভাষক মনিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন তথ্য কর্মকর্তা এস. এম. আল আমিন।
স্বাগত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবু তাহের আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “মরহুম জননেতা খাজা আহমেদের নেতৃত্বে আমরা ফেনীতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। তখন সাধারণ মানুষ আমাদের শক্তি ছিল। তাদের সহযোগিতা ছাড়া বিজয় অসম্ভব ছিল।” তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
মূল প্রবন্ধে মনিরুল ইসলাম তুলে ধরেন ‘লারকানা ষড়যন্ত্র’ থেকে শুরু করে ২৫ মার্চের গণহত্যার নৃশংসতা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। তিনি বলেন, “এই গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাস নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক কলঙ্কিত অধ্যায়—যার শিক্ষা আজও প্রাসঙ্গিক।”
সভায় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম প্রতিষ্ঠানের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই—দেশ গঠনে এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ জসিমউদ্দীন তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছি। সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে, শিক্ষার্থীরা বিপথে যাচ্ছে। এই অবস্থায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেতন হতে হবে—নচেৎ অর্জিত স্বাধীনতার মূল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে তথ্য কর্মকর্তা এস. এম. আল আমিন উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।আলোচনা সভাটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না—বরং ছিল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার এক শক্তিশালী আহ্বান, নতুন প্রজন্মকে জাগ্রত করার এক প্রেরণাদায়ী মঞ্চ।