
ফেনীর পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং এ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে পরীক্ষার্থীদের।
উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন মানুষ।
পরশুরাম উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।পরশুরাম উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩৩ - ৩৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মু. সুহেল আখতার বলেন, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। আমার কিছু করার নেই। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি লক্ষ করা যাচ্ছে। উপজেলায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট।
এবার পরশুরাম উপজেলায় এসএসসি,দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে
পড়াশুনায় বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রাপ্তিতে হতাশায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোবারক হোসেন বলেন, প্রচুর গরমের মধ্যে যোগ হয়েছে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং। পড়ার টেবিলে বসতে পারি না। ভালো ফলাফল করতে পারব কিনা আল্লাহ জানে। দশ বছরের সাধনা। ভালো ফলাফল না পাইলে জীবন টা বরবাদ হয়ে যাবে।
পৌরসভার ছয়ঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা নাজনীন চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ জনজীবন ।তিনি আরও বলেন, গত একসপ্তাহ সকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ১২ /১৫ বার লোডশেডিং হচ্ছে। বর্তমানে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময়ের এই লোডশেডিংয়ে পরিবার পরিজন বাচ্চাকে নিয়ে অনেক কষ্ট হচ্ছে। দিনে যা-তা, রাতে বেশি কষ্ট হয়।
পরশুরাম পল্লি বিদ্যুৎ ডিপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) মু সুহেল আক্তার বলেন, আমি বিদ্যুৎ যা পাব তা জনগণকে দিব।আমি বিদ্যুৎ মন্ত্রী নই। আমাকে বললে বিদ্যুৎ বাড়ানো যাবে। আমার মত আবদুল্লাহ আল মিন্টু কে বিদ্যুৎ মন্ত্রী দেওয়া উচিত ছিল সরকারের। কারণ তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবসা বানিজ্য সম্পর্কে ভালো বুঝে।তিনি আরও জানান, পরশুরাম উপজেলার জন্য যা বরাদ্দ দিবে আমি পুরো উপজেলা বন্টন করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করি।