
প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ড ভন্ড পরশুরাম উপজেলা বিভিন্ন এলাকা।এবছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় ও দমকা হাওয়ায় অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে।বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। ফলে উপজেলা য় বৈদ্যুতিক গ্রাহকরা গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ধানক্ষেত হেলে পড়ে এবং ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় ঝড়ের তান্ডব দেখা যায়। গতকাল সন্ধ্যা ৭ টা দিকে হঠাৎ ঝড়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
রবিবার সন্ধায় ৭ টায় উপজেলা উপর দিয়ে হঠাৎ দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ায় সময় ঘরবাড়ি, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুটি এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ে ফলে কিছু সময়ের জন্য যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিসসের কর্মচারীরা গাছ কেটে সড়িয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এছাড়া উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় গাছের ডালপালা পড়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি দমকা হাওয়ায় ঘরের চালের উপর পড়ে।
বাঁশপদুয়া গ্রামের রহিম উদ্দিন জানান, গতকাল কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে আনতে অনেক কষ্ট হবে।গাছপালা ডাল ভেঙে রাস্তা ঘাট বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ এখনো সচল হয়নি। ফ্রিজ মাছ মাংস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পরশুরাম পল্লি বিদ্যুৎ ডিপুটি জেনারেল ম্যানাজার (ডিজিএম) মু সুহেল আক্তার বলেন, গতকাল সন্ধায় কাল বৈশাখী ঝড়ে গাছপালা ডাল এবং বৈদ্যুতি খুঁটি ভেঙে রাস্তা ঘাট বন্ধ যায় সাময়িক ভাবে। কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে অফিসে নিয়োজিত কর্মচারীরা সারারাত কাজ করছে রাতে ২ টা থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া শুরু হয়েছে। সোমবার সারাদিন পুরো উপজেলায় কাজ চলছে তার পরেও কাজ শেষ হয়নি।উপজেলা বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
বক্স মাহমুদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডে মোস্তফা জানান, আমার বাড়িতে নারকেল গাছ ভেঙে যায় এবং আম গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুৎ বিছিন্ন রয়েছে সন্ধায় পর্যন্ত বিদ্যুৎ অফিস থেকে কেউই আসে নাই। ফ্রিজে যা আছে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি আশ্রাফুল ইসলাম জানান, কালবৈশাখী ছোবলে ব্যাপক ক্ষতি হলেও কিন্তু বড়ো ধরনের ক্ষতি বা মৃত্যু জনিত কোনো ক্ষতি হয় নি। আমরা সর্বাক্ষণ চতুর দিকে খবরাখবর রেখেছি।
উপজেলা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, কালবৈশাখী প্রথম ছোবলে গাছপালা ডাল ভেঙে যায় এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় সাময়িক যানচলাচল বন্ধ থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলের তেমন ক্ষতি হয় নি। কিন্তু যদি আরও কালবৈশাখী ছোবল দেখা দেয় তাহলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।