
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি প্রচারের লক্ষ্যে এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা তথ্য অফিস ফেনীর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে স্থানীয় নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা তথ্য অফিসের তথ্য অফিসার এস. এম. আল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাঁশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগমসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
সমাবেশে তথ্য অফিসার এস. এম. আল আমিন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি “ফ্যামিলি কার্ড” সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত নারী, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার এবং নারী প্রধান পরিবার—এসব শ্রেণির মানুষ এই কার্ডের আওতায় আসবেন। এছাড়া ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়েদের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারও এই সুবিধা পাবে।
তিনি আরও জানান, যেসব পরিবারে নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী রয়েছেন, বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স রয়েছে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এয়ার কন্ডিশনার আছে কিংবা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে তারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন না।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি মাসে মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে ন্যূনতম ২৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকিও এই কার্ডের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রদান করা হবে।
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ডকে একটি “সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড”-এ রূপান্তর করা, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিক এর আওতায় আসে।
সমাবেশের শেষাংশে তথ্য অফিসার বলেন, “কেউ পিছিয়ে থাকবে না”—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (SDGs) বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ফ্যামিলি কার্ড একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।