1. admin@sotteronusandhan24.com : admin :
  2. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং , তেলের সংকট পানির অভাবে ক্ষতির মুখে ইরি-বোরো চাষীরা পরশুরামে তীব্র লোডশেডিং বিপর্যস্ত জনজীবন, পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ফেনীর পরশুরামে ধান কাটতে গিয়ে হিট স্ট্রোকে দিনমজুর সুরুজ আলী পরশুরামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট পরিচালনা প্রধান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার সোনালি স্মৃতির রূপকথার দিনগুলি ফিরে দেখা ফেনীর মহিপালে মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীতে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন ব্যারিস্টার খোকন ছাগলনাইয়া প্রতিবন্ধীদের মাঝে এমপি মজনু’র হুইল চেয়ার বিতরণ ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন ঘিরে ফেনীতে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ফেনীতে ২ হাসপাতাল সিলগালা ১’টির কার্যক্রম বন্ধ ও জরিমানা

হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার সোনালি স্মৃতির রূপকথার দিনগুলি ফিরে দেখা

সবীর আহমেদ ফোরকান,(পরশুরাম),ফেনী
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

সময়ের স্রোতে ভেসে বদলে গেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ। প্রযুক্তি ও নগরায়নের প্রবল ঢেউয়ে আজকের গ্রাম যেন আর আগের সেই সহজ-সরল, প্রাণচঞ্চল গ্রাম নেই।

মাত্র এক-দুই দশক আগেও যে গ্রামীণ জীবন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, আন্তরিকতা আর পারস্পরিক নির্ভরতায় ভরপুর—আজ তা অনেকটাই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।

একসময় ভোরের সূচনা হতো পাখির কলতান, মোরগের ডাকে আর গৃহস্থালির ব্যস্ততায়। কৃষকরা লাঙল-গরু নিয়ে মাঠে যেতেন, আর বাড়ির আঙিনায় চলতো ধান ভানা, চাল কুটা কিংবা শাকসবজি প্রস্তুতের কাজ।

জীবন ছিল কষ্টসাধ্য, কিন্তু তাতে ছিল এক ধরনের প্রশান্তি ও তৃপ্তি—যা আজকের যান্ত্রিক জীবনে অনেকটাই অনুপস্থিত।

গ্রামের শৈশব ছিল নিখাদ আনন্দে ভরা। বিকেলের মাঠ মানেই ছিল প্রাণের উচ্ছ্বাস—হাডুডু, দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, কানামাছি কিংবা লাঠিখেলা। আবার অনেকেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে গিয়ে ক্রিকেট বা ফুটবল খেলায় মেতে উঠতো।

হৈচৈ, দৌড়ঝাঁপ আর হাসির রোল যেন গ্রামজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে মা-বাবার বকুনি বা শিক্ষকের শাসন—সেই সময়ের শাসনও আজ মধুর স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।

গ্রামীণ সংস্কৃতির আরেকটি অনন্য আকর্ষণ ছিল যাত্রাপালা—যা শুধু বিনোদন নয়, ছিল মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনের এক বিশাল ক্ষেত্র। গ্রামের খোলা মাঠে, বড় বটগাছের নিচে কিংবা হাটের পাশে মাঝে মাঝেই বসতো যাত্রার জমজমাট আসর।

সন্ধ্যা গড়াতেই চারপাশের গ্রাম থেকে দল বেঁধে মানুষ ছুটে আসতো সেই আসরে। কারো হাতে লণ্ঠন, কারো হাতে কেরোসিনের বাতি—আলো-আঁধারের মধ্যে তৈরি হতো এক অন্যরকম আবহ।

অনেক কিশোর-যুবক আবার পরিবারের চোখ এড়িয়ে, চুপিচুপি যাত্রা দেখতে চলে যেত—কখনো বন্ধুদের সঙ্গে, কখনো একাই।

গভীর রাত পর্যন্ত নাটকের সংলাপ, গান আর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে থাকতো তারা। যাত্রা শেষে কুয়াশা ভেজা ভোরে বা রাতের নিস্তব্ধতায় সবাই দল বেঁধে বাড়ির পথে হাঁটতো—মাঝে মাঝে হাসাহাসি, গল্প আর সেই রাতের স্মৃতি নিয়ে।

কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পরই শুরু হতো আরেক দৃশ্য—অপেক্ষা করতো মা-বাবার বকুনি, কখনো দরজা বন্ধ পেয়ে বাইরে বসে থাকা, আবার কখনো নানা অজুহাত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা।

তবুও এসবের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল এক অপূর্ব আনন্দ, এক নির্মল শৈশব, যা আজকের প্রজন্ম কেবল গল্পেই শুনে।

পূর্বপুরুষদের জীবনধারা ছিল আরও সরল, কিন্তু গভীর মূল্যবোধে ভরা। তারা অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতেন, পরিশ্রমকে জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং একে অপরের প্রতি ছিল অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

গ্রামের কোনো সমস্যা মানেই সবাই মিলে সমাধান—কোনো পরিবার কষ্টে থাকলে অন্যরা এগিয়ে আসতো নিঃস্বার্থভাবে। মুরব্বিদের কথা ছিল অমূল্য, তাদের সিদ্ধান্তই ছিল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

সন্ধ্যা নামলেই উঠোনভরা আড্ডা, গল্প বলা, লোককথা শোনা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে জীবনের শিক্ষা নেওয়ার এক অপূর্ব পরিবেশ তৈরি হতো। কেরোসিনের বাতি বা হারিকেনের আলোয় চলতো পড়াশোনা—যেখানে স্বপ্ন ছিল বড়, কিন্তু চাওয়া ছিল সীমিত।

গ্রামের হাট-বাজার ছিল প্রাণের স্পন্দন। সপ্তাহে একদিন বসা সেই হাট ছিল শুধু কেনাবেচার স্থান নয়—ছিল সম্পর্ক গড়ে তোলার কেন্দ্র। কৃষিপণ্য, তাজা মাছ, দুধ, ঘি কিংবা হাতে তৈরি জিনিস—সবকিছুতেই ছিল দেশীয়তার গন্ধ।

তবে বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনকে সহজ করলেও কেড়ে নিয়েছে অনেকটা সামাজিকতা। এখনকার শিশুরা মাঠের খেলায় নয়, বরং স্ক্রিনে ব্যস্ত। উঠোনভরা আড্ডা হারিয়ে গেছে, কমে গেছে প্রতিবেশীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক।

পরিবর্তন অনিবার্য—এটাই সময়ের দাবি। তবে উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় যদি আমরা পূর্বপুরুষদের সেই মূল্যবোধ, পারস্পরিক ভালোবাসা ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে পারি, তবেই গড়ে উঠবে একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ।

গ্রামবাংলার সেই সোনালি দিনগুলো ফিরে না এলেও, তার শিক্ষা ও সৌন্দর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ছবি সংযুক্ত

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY POPULAR HOST BD