
অভিভাবকরা সচেতন হলে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে গতকাল দাগনভূঞায় মায়ের করুন মৃত্যু হতো না, বাবাকে বোনকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হতো না , মাদকাসক্তরা শুধু পরিবারের বোঝা নয়, তারা সমাজের বোঝা, রাষ্ট্রের বোঝা। যে পরিবারে একজন মাদকাসক্ত রয়েছে সে পরিবারই বুঝতে পারে এর যন্ত্রণা কি ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: শহীদুল ইসলাম।
আজ ১১ মে দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিকল্পে মাদক বিরোধী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা সমাজ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আমরা অনেক সময় দেখি পিতা, মাতা অতিষ্ঠ হয়ে তাদের সন্তানকে সাজা দিতে আমাদের কাছে আসে তাহলে আমাদের বুঝতে হবে কতটা কষ্টে থাকলে একজন মা ও বাবা এরকম বলতে পারে। এজন্য আমাদের সকল শ্রেনী পেশার মানুষ কে মাদক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে হবে।
মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল হামিদ বলেন,মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি এ রাষ্ট্রকে এ দেশকে মাদক মুক্ত করতে আমাদের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন,ফেনী একটি সীমান্তবর্তী এলাকা এ জেলায় মাদক কারবারিরা পাশ্ববর্তী দেশগুলোর থেকে মাদক এনে আমাদের দেশকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ মাদকে আসক্ত ও জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে এতে আমাদের যুব সমাজ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি পরিবার প্রতিটি ঘর থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে আমাদের এ নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
রাজাপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: মোস্তফা জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর নুর মোহাম্মদ।
সেমিনারে বক্তারা মাদকের কুফল সম্পর্কে আলোচনা করেন ও শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহবান জানান।
সেমিনারে কলেজের ২শতাদিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। সেমিনার শেষে কুইজ প্রতিযোগিতা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।